বৃহস্পতিবার , ০৬ আগস্ট ২০২৬
 বৃহস্পতিবার , ০৬ আগস্ট ২০২৬

ফ্লাইওভারের নিচ থেকে বাবার কোলে

বিবেক ও মানবতার জয়
আইকন
নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
ফ্লাইওভারের নিচ থেকে বাবার কোলে

শীতের রুক্ষতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেরচণ্ডী ফ্লাইওভারের নিচে অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো সেই চারটি শিশুর শেষ ঠিকানা হলো বাবার কোল। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে আজ (১ ফেব্রুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি ও জিএফজিজি (GFGG) ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ, দৈনিক উপচার ও প্রথম আলো পত্রিকায় শিশুদের অসহায়ত্বের সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাজিদ হোসাইনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘RU Insiders’ প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি শেয়ার করা হলে দ্রুত নজরে আসে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির। সংগঠনের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের থাকা ও খাওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।

শিশুদের পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জে এন নুর (JN NUR) নামের এক ব্যক্তি। তিনি শিশুদের দেওয়া ঠিকানার সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধান চালান এবং স্থানীয়দের বিষয়টি অবগত করেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পরিবারের খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে শিশুদের পিতা সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে রাজশাহীতে আসার অনুরোধ জানানো হয়। আজ তিনি সশরীরে উপস্থিত হলে যথাযথ পরিচয় যাচাই ও ক্রস-চেক শেষে শিশুদের তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন:

ড. আতাউর রহমান রাজু, উপদেষ্টা, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি ও শিক্ষক, নাট্যকলা বিভাগ, রাবি। রাফিয়া সরকার রুপী, সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি আহসানুজ্জামান অনিক, সহ-সভাপতি। জিহাদ আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক।

আব্দুর রহমান মৃদুল ও রাফিয়া সরকার রুপী ,ভলেন্টিয়ার জিএফজিজি ফাউন্ডেশন।

হস্তান্তরকালে ড. আতাউর রহমান রাজু বলেন, "এটি কেবল একটি দায়িত্ব পালন নয়, বরং বিবেকের তাড়না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই ছাত্রসংগঠন ও ফাউন্ডেশন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা অনুকরণীয়।"

শিশুদের পিতা তাঁর সন্তানদের ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমিতির পক্ষ থেকেও সেই সকল ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, যাঁদের লেখনী ও সহযোগিতায় এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে।