বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬
 বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬

জামায়াতের ইশতেহার ‘সুন্দর’ : বিএনপি

আইকন
ডেস্ক নিউজ
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
জামায়াতের ইশতেহার ‘সুন্দর’ : বিএনপি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত ইশতিহারের বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। সেই সঙ্গে এ ইশতেহারকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ বলেও মন্তব্য করেছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আচারিতায় জামায়াতের ইশতারের প্রসেঙ্গ বলেছেন, “জামায়াতের ঘোষিত ইশতেহার বাধাই সুন্দর, ছাপা ঝকঝকে পরিষ্কার, কালার কম্বিনেশন ভালো। যদিও সবুজ রঙের এখানে আধিক্য দেখা গেছে। অফসেটে ছেপেছেন চার রঙে। উন্নত পেপার ব্যবহার করেছেন, বাঁধাই সুন্দর। এইটুকু পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে পজিটিভ বলার সুযোগ আছে।”

“আমরা মনে করি, যে কাজ টা বাস্তবায়নের দায়িত্ব যার কাঁধে আসবে না, তার পক্ষে এরকম একটা আকাশ কুসুম বা কাল্পনিক বা মানুষকে আকর্ষণ করবার জন্য স্বপ্ন বিলাসী একটা ইশতেহার যেতেই পারে। তবে সেটার বাস্তবতা তো বোঝা দরকার।”


আলমগীর পাভেল বলেন, “যেমন যদি বলি তারা যে বলেছেন ৬৪ জেলাতে মেডিকেল কলেজ করবে। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার এখন যে দুর্বিষহ অবস্থা, সরকারি মেডিকেল কলেজ যেগুলো আছে সবগুলোর অবস্থাই দুর্বিষহ। সেই সরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মিলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ১০০ টির বেশি মেডিকেল কলেজ আছে। এখানে বেসিক সায়েন্স পড়ানোর কোন শিক্ষকই নাই। একেবারে বলতে গেলে ৫০০ জনেরও কম। প্রয়োজনের তুলনায় ফাউন্ডেশন এনাটমি, ফিজিওলজি, বেসিক সাবজেক্ট বায়োকেমিস্ট্রি .পড়ানোর মতো শিক্ষক নেই। সেই জায়গাতে এই ধরনের মেডিকেল কলেজে তৈরি করলাম—এটা শুনতে খুব চটকদার মনে হতে পারে কিন্তু এই মেডিকেল কলেজ থেকে যে শিক্ষার্থী বের করবো, তার যদি সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা না থাকে, রোগীর চিকিৎসা করার সক্ষমতা যদি না থাকে, তাহলে মেডিকেল কলেজ স্থাপনটা তো শুধু একটা স্থাপনা, একটা বিল্ডিং… এমন স্থাপনা বানানো যেতেই পারে।”

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিষয়ে বিষয় উল্লেখ করে বিএনপি'র মিডিয়া সালের এই আহবায়ক বলেন, “তারা বলেছে যে, তারা স্বাস্থ্য খাতে প্রায় জিডিপির তিন গুণ বরাদ্দ রাখবে। তিন গুণ জিডিপি প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার হয়। প্রতি বছরে এবং সেটা এখন আমাদের যা আছে, তা রিজার্ভ যে পরিমাণ বছরের রিজার্ভ তার চাইতে বেশি শুধু স্বাস্থ্য খাতের জন্য। তাদের বরাদ্দ তো এটা তো বাস্তব সম্মত না।”

কর্মক্ষেত্রে নারীদের কর্মঘণ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “উনারা কর্মঘণ্টার কথা বলেছেন যে, ৫ ঘণ্টা করে প্রতি দিনের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করবেন মেয়েদের জন্য এবং বলেছেন যে প্রথমে সরকারি পর্যায়ে হবে তারপরে বেসরকারি পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন করবেন। ভালো কথা; বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি পর্যায়ে সবচাইতে বেশি নারী যারা কর্মরত, তারা হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্স এবং আয়া। এরা সরকারি হাসপাতালে যদি ৫ ঘণ্টা করে শিফট করা হয়…. হাসপাতাল তো ভাই ৮ ঘণ্টার কর্মস্থল না, হাসপাতাল হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা কর্মস্থল। তারা কি তাহলে পাঁচটা শিফট করবেন।”

চাঁদাবাজি শব্দটির ব্যবহার প্রসঙ্গে আলমগীর পাভেল বলেন, “চাঁদা একটা একরকম শব্দ। চাঁদা শব্দটি তো প্রতিষ্ঠিত শব্দ। চাঁদা নিয়ে তো আমরা কখনো বিরোধিতার সুযোগ আছে। আমরা তো প্রত্যেকে চাঁদা দেই। আমরা যদি কোন একটা সংগঠনের সদস্য হই। চাঁদা দেই না সে জায়গায়? তাহলে চাঁদা দেওয়াটাই মানে কি চাঁদাবাজি নাকি? তো এরকম তারা কিছু কিছু সস্তা শব্দ ব্যবহার করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “তারা বলেছেন যে ১০লক্ষ টাকা পর্যন্ত তারা সুদমুক্ত ঋণ দেবেন… তো তারা কি চিন্তা করে দেখেছেন যে যাকে সুদমুক্ত ঋণ যদি দিচ্ছেন— তার কর্মদক্ষতা বাড়ছে কি না? আমি কি তার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছি, না কি ওই ১০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছি? এর মাধ্যমে কি ঋণগ্রহিতা ব্যক্তিকে জনশক্তি হিসেবে তৈরি করা যাবে?”


“উনারা বলেছেন যে ৬৫ বছরের উর্ধে প্রত্যেকটা লোককে পেনশন দেবেন… তো পেনশনটা যদি দেবেন তাহলে ভিত্তিটা কি হবে? উনি যে কাজ করতেন সে কাজের উপর ভিত্তি করে হবে, নাকি যে ব্যক্তিটি সারাজীবন কোন কাজই করেনি….. যেন গ্রামের একজন মহিলা বা নারী যার সারাজীবন কোন চাকরি/ব্যবসা ছিল না, তাকে উনি পেনশনের অন্তর্ভুক্ত কিভাবে করবেন? তার সে পেনশনের কাঠামোটা কি হবে? তারা বলেছে যে ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের শিশুখাদ্য বিনামূল্যে দিবেন। এই শিশু খাদ্যটাই তো অপরাধ। চিকিৎসার বিজ্ঞানে এখন শিশুখাদ্য ব্যবহার করাটাকে নিষেধ করা হয়। এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে মাতৃদুগ্ধ হচ্ছে শিশুর অন্যতম খাবার একমাত্র খাবার। তো এই জায়গাতে উনারা এটাকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা বাস্তবসম্মত নয়।”