রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেহরির ডাক যেন কারও কান্নার কারণ না হয়: আসুন মানবিক হই

আইকন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
সেহরির ডাক যেন কারও কান্নার কারণ না হয়: আসুন মানবিক হই

রমজান মাস সংযম ও সহমর্মিতার। সেহরি খাওয়ার জন্য মানুষকে জাগিয়ে তোলা একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্য। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ঐতিহ্যের ধরন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বিকট শব্দে ঢোল পেটানো বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাইক ব্যবহারের ফলে শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।


অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা : গত বছর রাজশাহীর ছোটবনগ্রামে সেহরির সময় ঢোলের তীব্র শব্দে এক বৃদ্ধের স্ট্রোক করার খবর আমাদের সবার মনে থাকার কথা। এ বছরও দেশের বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, ঘরে ঘরে যখন অ্যালার্ম ঘড়ি আর স্মার্টফোন আছে, তখন এই ২০২৬ সালে এসেও কি মাঝরাতে ঢোল পিটিয়ে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো কতটা যৌক্তিক?



জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহসহ অনেক আলেম বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, সেহরির সময় উচ্চশব্দে ঢোল বাজানো বা দীর্ঘক্ষণ মাইকিং করা ইসলামের অংশ নয়। বরং এর ফলে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি বা শিশুর কষ্ট হলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। মসজিদের মাইকে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে সেহরির শেষ সময় ঘোষণা করাই যথেষ্ট। কিন্তু অনেক জায়গায় দেখা যায় দীর্ঘক্ষণ গজল বা তিলাওয়াত প্রচার করা হয়, যা অনেকের বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটায়।



আমাদের পাড়া-মহল্লায় এমন অনেক শিশু আছে যারা শব্দে চমকে ওঠে, অনেক পরীক্ষার্থী আছে যাদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন, আবার অনেকে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতায় ভুগছেন। তাদের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


আসুন, আমরা মানবিক হই। নিজ নিজ এলাকার এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলি এবং বিনয়ের সাথে তাদের বুঝিয়ে বলি। ঐতিহ্য যেন কোনোভাবেই কারও জন্য ট্র্যাজেডিতে পরিণত না হয়।