শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
 শনিবার , ২০ জুন ২০২৬

সম্পর্কের বিবর্তন ও অবহেলার দায়

আইকন
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
সম্পর্কের বিবর্তন ও অবহেলার দায়

সমসাময়িক মানবিক সম্পর্কের একটি বড় সংকট হলো ভালোবাসার সাথে অবহেলার সংমিশ্রণ। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে সম্পর্কের গভীরতা মাপা হয় প্রদর্শনী দিয়ে, কিন্তু এর মূলে থাকা আন্তরিকতা ও মনোযোগ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। ভালোবাসার দাবি নিয়ে এগিয়ে আসা মানুষগুলো যখন একে অপরকে মানসিক ও আবেগের দিক থেকে উপেক্ষা করে, তখন সেই সম্পর্ক তার নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে।


ভালোবাসা মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং অবিরাম মনোযোগের সমষ্টি। কিন্তু বর্তমানে একটি ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে যে, অবহেলা করা মানেই হয়তো গুরুত্ব বৃদ্ধি করা। এই মানসিকতা কেবল সম্পর্কের জটিলতাই বাড়ায় না, বরং একজন মানুষের মানসিক সুস্থতাকে বিপন্ন করে তোলে। যখন সম্পর্কের মধ্যে নীরবতা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রয়োজনীয় সময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয় না, তখন তাকে ভালোবাসা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা অসম্ভব।


অবহেলার ধারাবাহিকতা সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের বিষাদময় নিঃসঙ্গতা তৈরি করে। এটি কেবল সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটায় না, বরং ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাকে সরাসরি আঘাত করে। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বহীনতা মানুষকে হীনম্মন্যতায় ভোগায় এবং তাকে নিজের প্রতি আস্থাহীন করে তোলে। একটি সুস্থ সম্পর্কে একে অপরের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি সংবেদনশীল হওয়া অপরিহার্য, যা অবহেলার উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।


ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো অন্যের আবেগের দায়িত্ব গ্রহণ করা। সেখানে কোনো স্থান নেই স্বেচ্ছাচারিতা বা এড়িয়ে চলার। সম্পর্কের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে অবহেলাকে পরিহার করে নিয়মিত যোগাযোগ এবং পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা করতে হবে। অবহেলা কোনোভাবেই ভালোবাসার ভূষণ হতে পারে না; বরং এটি সম্পর্কের পতন ও বিনাশের সূচনামাত্র।


পরিশেষে বলা যায়, ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবহেলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্পর্কের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল ভালোবাসা তার প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পাবে। অন্যথায়, অবহেলা নামক নীরব বিষে নষ্ট হবে মানবীয় সম্পর্কের সমস্ত মাধুর্য।


লেখক : আবুল হাসনাত অমি

সম্পাদক ও প্রকাশক  সিটি নিউজ রাজশাহী ।