বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬
 বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬

বাজারের আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত: সিন্ডিকেট কি তবে রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী?

আইকন
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
বাজারের আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত: সিন্ডিকেট কি তবে রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী?

পবিত্র রমজান মাস সমাগত। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের এই মাসটি মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের এক মহান সুযোগ। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও রমজানের প্রাক্কালে নিত্যপণ্যের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির তান্ডব লক্ষ করা যাচ্ছে। যেখানে সংযমই হওয়ার কথা ছিল মূল ভিত্তি, সেখানে অতিমুনাফালোভী এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে রমজান যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক বড় ক্ষেত্র।


সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আমদানি তথ্যানুযায়ী, আসন্ন রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরের কোনো ঘাটতি নেই। এমনকি গত বছরের তুলনায় আমদানির হারও সন্তোষজনক। অথচ মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বাজারগুলো থেকে শুরু করে মফস্বলের হাটে পর্যন্ত রমজানে বহুল ব্যবহৃত ইফতারি উপকরণের দাম হুট করে অনেকটা বেড়ে গেছে। বেগুন, শসা ও লেবুর মতো সবজির দাম এরই মধ্যে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।



সাধারণত চাহিদার বিপরীতে যোগান কম থাকলে দাম বাড়ে—এটি অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম। কিন্তু বর্তমান বাজারে কৃত্রিম সংকটের নেপথ্যে রয়েছে ‘সিন্ডিকেট’ নামক এক অদৃশ্য চক্র। পাইকারি বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও খুচরা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারে মজুতদারি বন্ধে যে ধরনের কঠোর তদারকি প্রয়োজন, তার ঘাটতি দৃশ্যমান। ব্যবসায়ীদের অজুহাত—পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও এলসি জটিলতা; কিন্তু এসব যুক্তির আড়ালে অতিমুনাফার নেশাই যে মুখ্য, তা স্পষ্ট।


দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এমনিতেই স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। চাল, ডাল ও তেলের দামের চাপে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেট যখন তছনছ, তখন রমজানের বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ রীতিমতো দিশেহারা। টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ সারিই প্রমাণ করে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কতটা আকাশচুম্বী।


কেবল শুল্ক কমিয়ে বা সভা-সেমিনার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রতিটি বড় পাইকারি বাজারে এবং খুচরা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং সেলকে আরও সক্রিয় হতে হবে। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা কিংবা অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য কেবল নামমাত্র জরিমানা যথেষ্ট নয়, বরং কারাবাসের মতো কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে খুচরা ও পাইকারি বাজারের মাঝখানের মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।


লেখক : আবুল হাসনাত অমি

সম্পাদক ও প্রকাশক,সিটি নিউজ রাজশাহী